রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহ সংশ্লিষ্টদের উপর হামলা ও অবরুদ্ধ করে হ্যান্ডকাপ পরানো ছিনিয়ে নেয়া আসামি ফয়সাল শেখকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামী গোয়ালন্দ উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া এলাকার অপু শেখের ছেলে।
তার বিরুদ্ধে গোয়ালন্দঘাট থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
গত ২০ জুন মাদকের স্বর্গরাজ্য খ্যাত দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে মাদকদ্রব্য সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার পরদিন ২১ জুন রবিবার রাতে গোয়ালন্দের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান খানের নির্দেশে ফয়সালকে প্রধান আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মাদক সম্রাজী লাইলী বেগমসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন রাজবাড়ীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক রাসেল আলী।
এদিকে আসামী গ্রেফতারের ব্যপারে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ এর অধিনায়কের পক্ষে ২৮ জুন রবিবার দুপুরে ফরিদপুর ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে করেন ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা।
তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখিত ঘটনায় সাথে জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে অধিনায়ক, র্যাব-১০, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন|
উক্ত অধিযাচনপত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এর ফলশ্রুতিতে ২৭ জুন শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং র্যাব-৬ এর সহযোগিতায় বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকা হতে এজাহার নামীয় প্রধান আসামী ফয়সাল শেখকে (৩০) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে তাকে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান,
গ্রেফতারকৃত আসামি ফয়সালকে সোমবার দুপুরে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।
এ মামলায় ইতিপূর্বে ৬ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হলো।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন | সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান