|
Date: 2026-06-26 20:09:22 |
অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অসদাচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি অংশ তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষ তাদের সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলেন, স্থানীয় জনগণ সম্পর্কে কটূক্তি করেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এছাড়া ল্যাবের সামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তারা। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির চিফ ইনস্ট্রাক্টর সঞ্জয় কুমার বাহাদুর অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ প্রায়ই শিক্ষকদের এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) ও শোকজের ভয় দেখান। তার ভাষ্য, এ কারণে শিক্ষক কর্মচারিরা ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। প্রত্যককেই অধ্যক্ষের দ্বারা জুলুমের শিকার। অধ্যক্ষ ভূয়া বিল ভাউচার এর মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম করেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে গণিত বিভাগের ইন্সট্রাক্টর হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করেন, গত বুধবার সকালে অধ্যক্ষ তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহের সন্দেহ থেকেই এমন আচরণ করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন বলেও জানান।
অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে তিনি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীর হিজাব খুলে দেওয়ার অভিযোগ এবং সাতক্ষীরার মানুষ সম্পর্কে কটূক্তির অভিযোগ সত্য নয়। তার বক্তব্য খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিক্ষকদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি সরকারি বিধি-বিধান ও বিএসআর অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অধ্যক্ষের অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়গুলী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ।
© Deshchitro 2024