বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ১৬ বছর বয়সেই কাঁধে চেপেছিল সংসারের গুরুদায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই চিরতরে থমকে গেল এসএসসি পরীক্ষার্থী শান্তর জীবন ডায়েরি। যশোরের বাঘারপাড়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে সে।

বাবার মৃত্যুর মাত্র ৩ মাসের মাথায় একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া।নিহত শান্ত বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামের মৃত আনিসুর রহমানের ছেলে। সে সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় ছিল।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মাস আগে শান্তর বাবা আনিসুর রহমান ইন্তেকাল করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক বিপাকে পড়ে পুরো পরিবারটি। এমন পরিস্থিতিতে মা ও পরিবারের মুখে অন্ন জোগান দিতে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সন্ধানে নামে কিশোর শান্ত।

ঘটনার দিন কাজের উদ্দেশ্যে খাজুরা এলাকা থেকে উল্টো-চাঁনপুর যাওয়ার পথে 'ছোট-খুদরা কালীতলা' নামক স্থানে পৌঁছালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শান্তকে বহনকারী মোটরসাইকেলটির সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্র্যাক্টারের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে মোটোরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে শান্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম ও রক্তাক্ত আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসী রক্তাক্ত অবস্থায় শান্তকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত থাকার কারণে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শান্ত (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই শান্তর এভাবে লাশ হয়ে ফেরার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা। এদিকে ৩ মাসের ব্যবধানে স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে শান্তর মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে খালিয়া গ্রামের বাতাস। শান্তর এই অকাল ও নির্মম মৃত্যুতে ঘাতক ট্র্যাক্টারের বেপরোয়া গতি এবং গ্রামীণ সড়কে নিয়মনীতিহীন যান চলাচলকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024