কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারী কাজের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব বাবুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অহনা কনস্ট্রাকশনের নামে ৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি প্রকল্পের কার্যাদেশ না মেনে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন ঠিকাদার বাবু। এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগে উপজেলা এলজিইডির সাব-এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সরেজমিনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিলে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় ওই ঠিকাদার। উপজেলা এলজিইডির সূত্রে জানা যায়, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা ও জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ছোটখিল গ্রামের সড়কের পাশে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ দুই লাখ টাকা, সড়ক উন্নয়নে একই ইউনিয়নে বাসন্ডা গ্রামের হিরণ মোল্লার বাড়ির ২২০ ফুট রাস্তা সিসি ঢালাই নির্মাণ ৫ লাখ টাকা ও ফেলনা মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদ থেকে উত্তর দিকে টিপু মোল্লা বাড়ি হয়ে একরাম মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত ফ্ল্যাট সলিং নির্মাণ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোটখিল গ্রামে রাস্তার পাশে ড্রেনের গভীরতা ২ ফিটের স্থলে মাটি না কেটে মাত্র ১৬ ইঞ্চি গভীরতা দেওয়া হয়। নিচের সলিংয়ে ৩ টি রডের স্থলে নামমাত্র ১টি রড ব্যবহার করে দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ারকে না জানিয়ে দ্রুতগতিতে প্রায় ৪০ ফুট ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে ঠিকাদার। স্থানীয় লোকজন উপজেলা এলজিইডি অফিসকে খবর দিলে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার পলাশ চন্দ্র রায় গিয়ে কাজের ব্যাপক অনিয়ম দেখে ঠিকাদারকে কাজটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। ইউনিয়নের ফেলনা মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদ থেকে উত্তর দিকে টিপু মোল্লা বাড়ি হয়ে একরাম মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত ফ্ল্যাট সলিং নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করলে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেয়। বাসন্ডা হিরণ মোল্লার বাড়ি থেকে ২২০ ফুট রাস্তা সিসি ঢালাই নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করায় এলাকাবাসীর বাঁধা দিলে কিছু নির্মাণ সামগ্রী পরিবর্তন করে কোন রকম দায়সারা ভাবে কাজ করে এবং সেখানে ঠিকাদার বাবুর সাথে স্থানীয় লোকজনের হাতাহাতি ঘটনাও ঘটেছে। ছোটখিল গ্রামের আবদুর রাজ্জাক ড্রাইভার বলেন, আমাদের ড্রেণটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে থাকে। সরকারি ভাবে ড্রেণ নির্মাণ হবে শুনে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কাজের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে এটি আমাদের জন্য উল্টো গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেণটি নির্মাণে গভীরতা না দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। ২ ফিট গভীরতার স্থলে ১৫/১৬ ইঞ্চি দিয়েই তড়িগড়ি করে শেষ করা হচ্ছে। নিচের ঢালাইয়ে নামমাত্র রড ব্যবহার হচ্ছে। যা এই বছরেই ঠিকবেনা বলে মনে হচ্ছে। ফেলনা গ্রামের বাবর মোল্লা জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে এমন অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। জনবান্ধব একটি সড়কে ইটের সলিংয়ে এক নাম্বার ইট ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঠিকাদার এখানে তিন নাম্বার ইট ব্যবহার করতেছে। এছাড়াও ঠিকমত এজিনও কাটা হয়নি। কোন রকম দায়সারা ভাবে দ্রুত গতিতে কাজ করার পাঁয়তারা করছে ঠিকাদার। আজ মঙ্গলবার সকালে আমরা এমন অনিয়মে বাঁধা প্রদান করি। অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রব বাবু বলেন, কাজের যেহেতু সব কিছু ভুল, আমি আর কাজ করবো না। কাজের অনিয়ম হলে আমি বিল কম নিবো। সঠিক ভাবে করা সম্ভব না। প্রকল্প গুলোর উন্নয়ন কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা এলজিইডির সাব-এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, অহনা কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে পাওয়া ছোটখিল গ্রামের ড্রেণ নির্মাণ কাজে আমরা বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছি। কার্যাদেশ অনুযায়ী ড্রেণের গভীরতা ২ ফুট হলেও মাত্র সে ১৬ ইঞ্চি রেখেছে। নিচের সলিং ঢালাইয়ে ৩টি রড ব্যবহারের স্থলে সেখানে ১টি রড দেওয়া হয়েছে। ঢালাইয়ের আগে আমাকে জানানোর কথা থাকলেও সে না জানিয়ে তড়িগড়ি করে ঢালাই দিয়ে দিয়েছে। তাই আমি বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি একই প্যাকেজে ফেলনা গ্রামের মোল্লা বাড়ির রাস্তায় ইটের সলিং কাজেও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, অহনা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদারীতে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের একাধিক কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয় গুলো খতিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে অহনা কনস্ট্রাকশনের পাওয়া বেশ কিছু চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দিয়ে
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024