|
Date: 2026-06-08 20:53:52 |
সাতক্ষীরার দেবহাটায় শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার একমাত্র আসামী দীর্ঘ দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, মামলার আসামী বাইরে অবস্থান করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার কাশিপুর গ্রামের আইজুদ্দীন মোড়লের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৫) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক দেবহাটা উপজেলার নাজিরের ঘের গ্রামের নুর ইসলাম সানার মেয়ে নার্গিস খাতুন (৩২)-কে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে খাদিজা খাতুন নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ঘটনার সময় নার্গিস খাতুন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার আগের দিন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নার্গিস খাতুনকে বেধড়ক মারধর করেন আসাদুল ইসলাম। খবর পেয়ে নার্গিসের বাবা-মা মেয়েকে দেখতে ও বাড়িতে নিয়ে আসতে গেলে আসাদুল তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে মারধরের চেষ্টা চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন।
পরদিনও নার্গিস খাতুনকে মারধরের ঘটনা ঘটলে তিনি চিকিৎসা গ্রহণের পর মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই রাতেই আসাদুল ইসলাম শ্বশুরবাড়িতে যান বলে অভিযোগ। সেখানে শাশুড়ি আদুরীনেছা একা পেয়ে প্রথমে তাকে চেতনানাশক স্প্রে করেন এবং অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চোখ, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় আদুরীনেছাকে প্রথমে সখীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনো শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ না করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালতের নির্দেশে দেবহাটা থানা মামলা রেকর্ড করে। তবে আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরও প্রায় ২০ দিন বিলম্বে মামলা গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি সিআর ৮৭/২৬ (কোর্ট এফআইআর নির্দেশে) নম্বরে ৪৪৭/৩২৩/৩২৮/৩২৬/৩২৫ ধারায় রেকর্ড করা হয়।
মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত একমাত্র আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, গুরুতর অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, আসামী বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। মামলা না তুললে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারটি সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।
আরও জানা গেছে, ঘটনার সময় অন্তঃসত্ত্বা থাকা নার্গিস খাতুন পরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় দেড় মাস হলেও আসামী আসাদুল ইসলাম সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তুহিন বাওয়ালী অন্যত্র বদলি হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, মামলাটিতে একজন আসামী রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আসামী হুমকি দিয়ে থাকলে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, আসামী আসাদুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী নার্গিস খাতুনের পিতা নুর ইসলাম সানা বলেন, আমরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন আমাদেরও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলা হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও আসামীর দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।
স্থানীয় সচেতন মহলও ঘটনাটির দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
© Deshchitro 2024