|
Date: 2026-06-08 19:03:14 |
রাজধানীর শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ফারজানা আক্তার নিহার রহস্যজনক ও নির্মম মৃত্যু হয়েছে। গত ৬ তারিখ সকালে পুলিশ ফারজানার মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে সুমন মোল্লার সাথে বিয়ে হয় ফারজানার। অভিযুক্ত সুমন মোল্লা যমুনা টিভি ও আরটিভিতে ভিডিও সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। বিয়ের প্রথম কিছুদিন সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও, দ্রুতই সুমনের আসল রূপ প্রকাশ পায়। সে মারাত্মকভাবে মাদক ও জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন মাদক ও জুয়ার টাকার জন্য ফারজানাকে চাপ দিত সুমন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই ফারজানার ওপর নেমে আসত অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। প্রথমে গালিগালাজ দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা রূপ নিত তীব্র শারীরিক নির্যাতনে।
ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, সুমনের এই নির্মম নির্যাতনের পেছনে পূর্ণ সমর্থন ও ইন্ধন জুগিয়ে আসছিল তার মা (শাশুড়ি) সালমা বেগম এবং বোন (ননদ) শিল্পী। তারা দুজনেই প্রতিনিয়ত ফারজানাকে গালিগালাজসহ বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করত। একই সাথে এই নির্যাতনের পেছনে তাদের বাসার বাড়িওয়ালা তুষার ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে। তুষার ভূঁইয়া সুমনের এসব অপকর্মে অন্যতম প্রধান মদদদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখত বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৬ তারিখ সকালে ফারজানার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও সচেতন মহলের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নির্মমভাবে হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে ফারজানার মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। এই নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িত সুমন, সালমা বেগম, শিল্পী ও বাড়িওয়ালা তুষার ভূঁইয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। ফারজানার হত্যাকারীদের 'নরপিশাচ' আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষ অতিদ্রুত জড়িত সকলকে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, অভিযুক্ত সুমন মোল্লা যে দুটি গণমাধ্যমে কর্মরত, সেই মিডিয়া হাউজগুলো (যমুনা টিভি ও আরটিভি) থেকে তাকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। সচেতন নাগরিক ও নিহতের পরিবার এই ঘটনার শুষ্ঠু তদন্ত করে দেশবাসির কাছে সত্য উন্মোচন করার আহ্বান।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
© Deshchitro 2024