নোয়াখালীর হাতিয়ায় সরকারের কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি গুদামের জায়গায় জ্বালানি তেলের পাম্প স্থাপন, গুদামের গাছ কেটে বিক্রি এবং বিভিন্ন মালামাল বিক্রিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মো. ইমরান উদ্দিন নামে স্থানীয় এক এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে।

মো. ইমরান উদ্দিন হাতিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুল্যাখালী গ্রামের আবু বকর ছিদ্দিকের ছেলে। তিনি পৌরসভা এনসিপির সদস্য এবং আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে একই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলার চৌমুহনী বাজারে প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে বিএডিসির একটি বৃহৎ গুদাম রয়েছে। একসময় ইউরিয়া সার ও কৃষি উপকরণ সংরক্ষণ ও বিতরণের কারণে এলাকাটি ছিল অত্যন্ত কর্মচঞ্চল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কার্যক্রম অনেকটাই কমে গেছে। কর্তৃপক্ষ গুদামটি বিভিন্ন সময় তিন বছর মেয়াদে ব্যক্তিগতভাবে লিজ দিয়ে আসছে। গত বছর গুদামটির লিজ নেন মো. ইমরান উদ্দিন।

অভিযোগ রয়েছে, লিজ গ্রহণের পর গুদামের অভ্যন্তরে থাকা প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া গুদামে থাকা বিভিন্ন লোহালক্কড় বিক্রি এবং জমি থেকে বালি-মাটি কেটে পাওয়ার ট্রলি প্রতি প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, এর আগে গুদামটি চৌমুহনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলী আশরাফ শাহীনের লিজে ছিল। সে সময় সেখানে এক ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ রড ও পাথর সংরক্ষিত ছিল। স্থানীয়দের দাবি, ইমরান উদ্দিন লিজ গ্রহণের পর সেখানে সংরক্ষিত প্রায় ২০ লাখ টাকার পাথর বিক্রি করা হয়। এছাড়া রাতের আঁধারে গুদামের তালা ভেঙে ৮৪ টন রড বিক্রির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় প্রভাবশালী মহলের কেউ কেউ সুবিধা পেয়েছেন বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে লিজ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে গুদামের খালি জায়গার একটি অংশ মাসিক ১০ হাজার টাকায় স্থানীয় বাবুল নামে এক ব্যক্তির কাছে জ্বালানি তেলের পাম্প স্থাপনের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, পাম্প স্থাপনের বিষয়ে তিনি কোনো অনুমতি দেননি। সম্প্রতি তিনি পাম্পটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে বিএডিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ইমরান উদ্দিন অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ইমরান উদ্দিন বলেন, আমি বৈধভাবে গুদামটি লিজ নিয়েছি। লিজগ্রহীতা হিসেবে প্রয়োজন হলে জায়গা ব্যবহার বা ভাড়া দেওয়ার অধিকার আমার রয়েছে। গাছ কাটা কিংবা অন্য যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তিনি আরও বলেন, আমি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

লিজ নেওয়া সরকারি গুদাম পুনরায় অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া বৈধ কি না জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা বিএডিসির সার-বীজ শাখার সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান বলেন, লিজগ্রহীতা কোনোভাবেই গুদাম অবকাঠামোর পরিবর্তন বা এর কোনো অংশ অন্য কারও কাছে ভাড়া দিতে পারেন না। আমরা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024