সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি কথিত প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে তালা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন সীমান্ত পিলার এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পিলারটির গায়ে ‘1818’ ও ‘EAST INDIA COMPANY’ লেখা খোদাই করা রয়েছে, যা এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন এবং চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, অপহরণ ও হত্যাসহ নানা অপরাধের রহস্য উদঘাটনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে তালা থানা পুলিশ। পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এবং সহকারী পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল)-এর তত্ত্বাবধানে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে ৫ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামে ভোলানাথ মন্ডলের বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় একটি পাথরের তৈরি সীমান্ত পিলার উদ্ধার করা হয়। পিলারটির গায়ে খোদাই করা ‘1818’ এবং ‘EAST INDIA COMPANY’ লেখাগুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হতে পারে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি লাল রঙের হিরো স্প্লেন্ডার ১০০ সিসি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পিলার ও মোটরসাইকেল বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং সেগুলোর উৎস ও প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে তদন্ত চলছে।

আটককৃতরা হলেন, তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের ভোলানাথ মন্ডল (৬০), খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর গ্রামের তুষার কান্তি সরদার (৩৫) ও সুশান্ত সরদার (৪৪), এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার সুন্দরমহল গ্রামের যাদব সরকার (৪২)।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং উদ্ধার হওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শনের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায় যে কলাগাছি এলাকায় একটি প্রাচীন সীমান্ত পিলার বিক্রির চেষ্টা চলছে। খবরের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে পিলারসহ চারজনকে আটক করা হয়। বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।

উদ্ধার হওয়া সীমান্ত পিলারটির ঐতিহাসিক মূল্য ও উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024