রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহঃ প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের নিকট থেকে  তিন লাখ টাকার ঘুষ দাবির অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন-২৬) দুপুরে স্থানীয় ঠিকাদার রবিউল ইসলাম এক লিখিত বক্তব্যে এ দাবি করেন। এ নিয়ে ঠিকাদার ওপৌর স্টাফদের মধ্যে টানা পড়ন ও অসন্তুষ দেখা দিয়েছে।
ঠিকাদার রবিউল ইসলাম বলেন, বাঘা পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। এখানে বিল পরিশোধ কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নয়, বরং নির্দিষ্ট হারে দর- কষাকষির এক অলিখিত বাজার। টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না, ক্যালকুলেটরের অঙ্ক না মিললে বিলে স্বাক্ষর করেন না।
আমি আপনাদের অবগতি করতে চায যে, আমি মোঃ রবিউল ইসলাম, পিতা- মোঃ জামাল উদ্দীন, সাং-দক্ষিন মিলিক বাঘা, থানা-বাঘা, জেলা- রাজশাহী। আমি  একজন পেশাদার ঠিকাদার। বাঘা পৌরসভার কোভিড ১৯ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার কাজ ৬ মাস পূর্বে শেষ করি। কিন্তু আমি উক্ত কাজের বকেয়া বিলের জন্য গত ০৫ মাস ধরে বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম এর কাছে তাগিদ দিলে সে আমার নিকট থেকে ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি তাহাকে ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে এখন পর্যন্ত সে আমাকে উক্ত বিল পরিশোধ করেন নাই। এ ছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার আইডি ১২৫৮০১৬ বাঘা আড়ানী রোড হইতে সাহারা কাউন্সিলর বাড়ী ও বুলবুলের বাড়ির পর্যন্ত মোট রাস্তা ২৫০ মিটার উক্ত কাজটি লটারীর মাধ্যমে মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন, প্রোঃ নিশাত জাহান নামে প্রাপ্ত হই, যার কাজের মূল্য প্রায় ২৬,৩৫,৯৭৫.৪৫/- টাকা। উক্ত কাজের ঠিকাদার আমার সহধর্মীনি। গত ১৮/০৫/২০২৬ইং তারিখে বাঘা পৌরসভার প্রশাসক, প্রকৌশলী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে কাজটি শুরুর জন্য উদ্বোধন করেন। তারপর উক্ত রাস্তার কাজ শুরু করা হয়। গত ০৩/০৬/২০২৬ইং তারিখে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুকুল হোসেন আমাকে বলে রাস্তাটির গাঁথুনি কম আছে। আমি জানাই সিডিউল মোতাবেক গাঁথুনি আছে। উক্ত তারিখ বিকেল ৩.০০ ঘটিকার সময় বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম কাজের গাথুনি ঠিক নেই বলে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। আমি ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অদ্য (৪ জুন-২৬ইং) সকাল ১০ টার দিকে পূর্বের কাজের বিলের জন্য বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি পুনরায় পূর্বের ৩ লক্ষ ও আজকের এডিপি কাজের জন্য ১ লক্ষ টাকাসহ সর্বমোট ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। আমি পুনরায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদার বাবু ও হিরাউল ইসলামের সামনে আমার ফাইল ছুড়ে ফেলে দেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে মারার উদ্দেশ্যে চেয়ার তুলেন। আমি ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের অপকর্মের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম ঘুষের বিষয়টি সম্মুর্ণ ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক বলে জানান তিনি। তবে এডিবির একটি কাজের মান খারাপ করায় তাকে ওই কাজের গুনগতমান ভালো করতে বলা হলে ঠিকাদার রবিউল আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক শাম্মী আক্তার বলেন, এ বিষয়ে লোকমুখে শুনছি। তবে ঠিকাদার এর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024