|
Date: 2026-06-03 09:29:16 |
সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নিহত তাহসিনের পরিবারের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের সুযোগ না পাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তাহসিন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা গ্রামের মান্নান হোসেনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে বাড়ির পাশে একটি নারকেল গাছে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় তাহসিন। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর দীর্ঘ সময় ধরে কোনো চিকিৎসক বা নার্সকে পাওয়া যায়নি। আহত কিশোর যন্ত্রণায় কাতরালেও দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়নি। পরে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. অসীম কুমার সরকার এসে তাহসিনকে দেখেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করলেও রিপোর্ট হাতে পেতে রাত ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
রাতের দিকে রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসক জানান, তাহসিনের শরীরের অভ্যন্তরে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তার লিভার (পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী ‘লান্স’) ফেটে গেছে। এ ধরনের জটিল রোগীর চিকিৎসা ট্রমা সেন্টারে সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়। তবে পরিবারের দাবি, এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই তাহসিনের অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে থাকার সময় তাহসিনের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও তাকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়নি। এছাড়া জরুরি অবস্থায় দায়িত্বশীল চিকিৎসাকর্মীদের অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও তারা দাবি করেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাহসিনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারে কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই। তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতে সহযোগিতা করেননি। উল্টো চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বিল আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারের মালিক ডা. হাফিজ উল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে ট্রমা সেন্টারের ম্যানেজার জনি প্রথমে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তাহসিনের মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
© Deshchitro 2024