ঈদের আনন্দ যেন দুর্গন্ধ বা পরিবেশ দূষণে ম্লান না হয়, সে বিষয়ে তৎপর শ্রীমঙ্গল পৌরসভা


ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীমঙ্গল উপজেলাজুড়ে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিজ নিজ পছন্দের পশু কোরবানি করছেন উপজেলার মুসলিম সম্প্রদায়। ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পরপরই পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানির ব্যস্ততা শুরু হয়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে স্বস্তিতেই ঈদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন পৌরবাসী।

কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এবার সবার মূল নজর দ্রুত বর্জ্য অপসারণের দিকে। ঈদের আনন্দ যেন দুর্গন্ধ বা পরিবেশ দূষণে ম্লান না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই তৎপর রয়েছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। যেখানেই কোরবানি শেষ হচ্ছে, সেখানেই দ্রুত বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়ছেন তারা।

মাঠ পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠে তৎপর রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রশাসক মোঃ জিয়াউর রহমান এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বর্জ্য অপসারণের পুরো কাজটি সরেজমিনে তদারকি করেন।

এছাড়াও ইউএনও জিয়াউর রহমান শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নির্ধারিত স্থানে চামড়া সংরক্ষণ ও চামড়া নষ্ট না করার জন্য অনুরোধ জানান। পাশাপাশি লবন দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে পশু কোরবানির পরপরই পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় একযোগে শুরু হয় বর্জ্য অপসারণ। সকাল ১১টার দিকে পৌর শহরের কালিঘাট রোড, ভানুগাছ রোড, জকলালিয়া রোড এলাকার বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভার ক্লিনাররা পিকআপভ্যান ও ঠেলাগাড়ি নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। বর্জ্যগুলো সংগ্রহের পর তা দ্রুততার সঙ্গে ছোট ছোট ভ্যান থেকে বড় বড় ট্রাকে তুলে নির্দিষ্ট ময়লার ভাগাড়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে পশুর রক্ত ও বর্জ্য থেকে যাতে কোনো ধরনের রোগবালাই বা দুর্গন্ধ না ছড়ায়, সেজন্য আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌরবাসীর মাঝে পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন ও পলিব্যাগসহ প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদুল আজহার পবিত্রতা রক্ষায় এবং পরিবেশদূষণ রোধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। পৌরসভার নির্ধারিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সকাল থেকেই শহরের অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় সড়কের পাশে, বাসাবাড়ির সামনে ফেলে রাখা কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কাজে নামেন। এই বর্জ্য অপসারণের কাজে বেশ কয়েকটি ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণের পরই বর্জ্য ফেলে রাখা স্থানে ছিটানো হয়েছে ব্লিচিং পাউডার। 

পৌর প্রশাসক ও ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটির পর পৌর শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। পশু কোরবানির পরপরই পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় একযোগে শুরু হয় বর্জ্য অপসারণ। শহরবাসী যাতে কোরবানির বর্জ্যের দুর্গন্ধে না ভোগেন এবং ঈদের আনন্দমুখর পরিবেশ যেন বজায় থাকে সে জন্য দ্রুত বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি রাতের মধ্যেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হবে। পৌর প্রশাসক একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে সব নাগরিকের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সাধারণ মানুষ ও পৌর নাগরিকরা জানিয়েছেন, এবার বর্জ্য অপসারণের গতি ভালো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল ধরণের বর্জ্য অপসারণ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024