দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আগামী ২৮মে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) বিকেল সোয়া ৫টায় দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি দিনাজপুর শহরের সর্বস্তরের মুসল্লিদের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি বলেন ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে ‌ সমৃদ্ধ এবং সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন।
আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মাঠ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান। দিনাজপুর পৌরসভার আয়োজনে এখানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন দিনাজপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।
ঈদের জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা ও উপজেলার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
 মুসল্লিদের ওজুর সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ওযুখানা ও পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ের জন্য অসংখ্য মাইক স্থাপন করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন ঈদের জামাত সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ মাঠজুড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য নির্ধারিত প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিরা শুধুমাত্র জায়নামাজ ও ছাতা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া মাঠ এলাকায় দুটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমালিকা পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) মোঃ আনোয়ার হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মিনারুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা বিএনপির ‌ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল মিলনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
দিনাজপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
২০১৭ সালে ঈদগাহ মাঠে ৫২টি গম্বুজ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। গম্বুজগুলোর দুই পাশে ৬০ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার এবং মাঝখানে ৫০ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। মেহরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এছাড়া ৫১৬ ফুট দৈর্ঘ্যে ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক্স দিয়ে নির্মিত এবং প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে দৃষ্টিনন্দন বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা রয়েছে। রাতে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ মাঠ।
২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর বৃহৎ পরিসরে এখানে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন দিনাজপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এ বছরও ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও দিনাজপুর পৌরসভার উদ্যোগে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024