মোংলা প্রতিনিধিঃ

‎সুন্দরবনেরনতুন ডাকাত দল গঠনের প্রাক্কালে  আত্মসমর্পণকৃত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
‎মঙ্গলবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

‎তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

‎এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে অষ্টম বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে নতুন ডাকাত দল গঠনের প্রাক্কালে ছোট সুমন বাহিনীর আত্মসমর্পণে অনিচ্ছুক দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়, যোগ করেন তিনি।

‎গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আত্মসমর্পণে অনিচ্ছুক উক্ত দুইজন সদস্য ‘চাচা-ভাইপো’ নামে একটি নতুন ডাকাত দল গঠন করে পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং বর্তমানে তারা রূপসা খেয়াঘাট ও কাটাখালীর মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

‎প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে উক্ত দুই ডাকাত সদস্য মো. নাজমুল শেখ ও হানিফ শেখকে আটক করা হয়।

‎এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির জন্য সদ্য প্রস্তুতকৃত ‘চাচা-ভাইপো’ নাম সম্বলিত ৫০০টি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

‎পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও পুলিশের সমন্বয়ে মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের সেলা নদীর বটতলার খাল সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি পাইপ গান, ১টি খেলনা পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

‎আটককৃত ডাকাত মো. নাজমুল শেখ ও হানিফ শেখ বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থেকে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। পরবর্তীতে গত ১৭ মে ছোট সুমন বাহিনীর আত্মসমর্পণের পরে তারা ‘চাচা-ভাইপো’ নামে একটি নতুন ডাকাত দল গঠন করে পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।

‎উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‎সাব্বির আলম সুজন আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024