লাখাইয়ের বাজারে কেমিক্যালযুক্ত গ্রীষ্মকালীন ফল, রয়েছে স্বাস্থ্যঝুকি। গ্রীষ্মকালীন ফলের পুরো মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই লাখাইয়ের বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলছে আম ও লিচুর। দোকানজুড়ে টকটকে হলুদ আম আর লালচে লিচু দেখে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনপ্রিয় এই দুই গ্রীষ্মকালীন ফলের মৌসুম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। ফলে বর্তমানে বাজারে থাকা অধিকাংশ আম ও লিচুই অপরিপক্ব। এতে একদিকে ক্রেতারা উচ্চমূল্যে নিম্নমানের ফল কিনে প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। লিচুর মৌসুমও এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। অথচ এর আগেই বিভিন্ন জাতের লিচু বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যার বেশির ভাগই কেমিক্যালযুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। লাখাইয়ে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মে মাসের শুরু থেকেই গোপালভোগ, হিমসাগরসহ বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী দাবি করছেন, এসব আম রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসেছে। সিংহগ্রামের কাউছার মিয়া বলেন, “দেখতে সুন্দর লাগায় পরিবারের জন্য আম কিনেছিলাম। বাসায় কেটে দেখি ভেতরে কাঁচা। রাতে বাচ্চার পেটব্যথা শুরু হয়। পরে বুঝলাম আমগুলো স্বাভাবিকভাবে পাকেনি। বামৈ বাজারের এক ক্রেতা বলেন, “জানতাম এখনকার আম খুব ভালো হওয়ার কথা না, তারপরও লোভ সামলাতে পারিনি। কেজি প্রতি ২৫০ টাকা দিয়েও ভালো আম পাইনি।” বর্তমানে খুচরা বাজারে আগাম আম ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে লিচুর প্রতি ছড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই বেশি লাভের আশায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী অপরিপক্ব ফল সংগ্রহ করছেন। পরে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথোফেনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, প্রতিটি ফলের নির্দিষ্ট পরিপক্বতার সময় রয়েছে। সময়ের আগে ফল সংগ্রহ করলে ভেতরে স্বাভাবিক শাঁস তৈরি হয় না। ফলে বাইরে থেকে পাকা দেখালেও ফলের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে না। অস্বাভাবিক উজ্জ্বল বা গন্ধহীন ফল কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ফল খাওয়ার আগে কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি , শুধু অভিযান চালিয়ে অপরিপক্ব ও রাসায়নিকযুক্ত ফলের বিস্তার বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য চাষি, আড়তদার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সব পক্ষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ব্যবসায়ী বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ব ফল পাকাচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মতে, এসব ফল খেলে প্রথমদিকে বমি ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির ক্ষতির পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024