|
Date: 2026-05-16 20:25:28 |
লাখাইয়ে ঈদকে সামনে রেখে উর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম,অস্তিরতায় নিম্ন আয়ের মানুষ।
লাখাইয়ের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। কয়েকদিন ধরেই সবজি ও ডিমের দাম বাড়তির দিকে থাকলেও চলতি সপ্তাহে নতুন করে বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাহিদা,
শনিবার (১৬ই মে) সকালে লাখাইয়ের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও একই পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ টাকার মধ্যে। একইভাবে আদার দামও কেজিপ্রতি এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০থেকে ২৪০ টাকায়।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই প্রতিদিন পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বুল্লাবাজারের ব্যবসায়ী ইমন মিয়া বলেন, “পাইকারি বাজারে প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম কেজিতে এক-দুই টাকা করে বাড়ছে। আমাদেরও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরায় বেশি দামে বিক্রি ছাড়া উপায় নেই।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে বড় গুদাম মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। এতে খুচরা বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ছে।
এদিকে, গত সপ্তাহ থেকে ডিমের বাজারেও অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে।
সবজির বাজারেও ক্রেতাদের জন্য নেই কোনো স্বস্তি। বর্তমানে ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে প্রায় কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে কম দামের সবজি পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। এছাড়া ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। করলা, বরবটি ও কাকরোলের দাম আরও বেশি, যা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সরবরাহ ব্যাহত হয়, আর সেই সুযোগে দাম আরও বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।
তবে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এ বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নিত্যপণ্যের এমন লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সীমিত আয়ের কারণে অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
ক্রেতা মিয়া হোসেন বলেন, “সরবরাহ ঘাটতি বা নানা অজুহাতে দাম বাড়ানো এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গেছে। সরকার যদি কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করত, তাহলে ব্যবসায়ীরা এত সহজে সিন্ডিকেট করতে পারত না।
সাধারণ মানুষের দাবী, বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি, মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য বাজারজাতের ব্যবস্থা জোরদার না করলে ঈদ সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
© Deshchitro 2024