|
Date: 2026-05-15 19:40:36 |
ভোর হতেই যেখানে শুরু হতো হাজারো মানুষের কোলাহল, ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ সারি আর ট্রাভেল এজেন্টদের হাঁকডাক—সেখানে এখন ভর করেছে সুনসান নীরবতা। ভারতের ভ্রমণ ভিসায় আরোপিত বিধিনিষেধ দীর্ঘ ৯ মাসেও প্রত্যাহার না হওয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বেনাপোল এখন প্রায় জনশূন্য।
২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, ২০২৬ সালের মে মাসে এসেও সেই জট খোলেনি।সীমিত পরিসরে মেডিকেল ভিসা চালু থাকলেও পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছে সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনীতি।
সবশেষ বৃহস্পতিবারের সরকারী পরিসংখ্যান বলছে, একসময়ের ব্যস্ততম এই রুট দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টায় যাতায়াত করেছেন মাত্র ৭২৫ জন যাত্রী। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী যাত্রীদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ৫৭৪
ভারতীয় নাগরিক ১৫০
অন্যান্য দেশের নাগরিক ১
সর্বমোট: ৭২৫
যাত্রী সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সাথে কথা বলে সংকটের তিনটি প্রধান দিক উঠে এসেছে:
সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ভারতের সাধারণ নির্বাচন পার হয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা কমেনি। জরুরি চিকিৎসার জন্য যারা যেতে চাচ্ছেন, তারাও সময়মতো ভিসা পাচ্ছেন না।"ভিসা জটিলতার কারণে যাত্রী আগমন এবং বহির্গমন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। তবে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পাসপোর্টধারীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
"আমিনুল ইসলাম, ইনচার্জ, জানান বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে"ভ্রমণ ভিসা দ্রুত স্বাভাবিক করা না হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক জানান, ভারত সরকারের উচিত দ্রুত এই বিধিনিষেধ শিথিল করা।"
© Deshchitro 2024