|
Date: 2026-05-15 15:49:24 |
একসময় কোলন ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে ধরা হতো। বিশেষ করে ৫০ বছরের পর এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে বলে মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন ত্রিশ ও চল্লিশ বছর বয়সীদের মধ্যেও এই ক্যানসার দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, মদ্যপান, স্থূলতা ও অলস জীবনযাপন - এসব কারণেই তরুণদের মধ্যে কোলন ক্যানসার বাড়ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে জন্ম নেওয়া মানুষের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি ১৯৫০ সালের মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ নতুন করে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যু হয় প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার মানুষের। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, বর্তমান জীবনযাত্রা না বদলালে ২০৪০ সালের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে।
তবে ভালো খবর হলো, কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মদ্যপান এড়িয়ে চলুন: অ্যালকোহল বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন নিয়মিত মদ্যপান করলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই এ ধরনের পানীয় থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।
ধূমপান বন্ধ করুন: ধূমপান শুধু ফুসফুস নয়, অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। দীর্ঘদিন তামাক ব্যবহার করলে শরীরে ক্ষতিকর পরিবর্তন তৈরি হয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব ধূমপান ছেড়ে দেওয়া জরুরি।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান: অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: অলস জীবনযাপন এই রোগের বড় ঝুঁকি। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়ামও উপকারী। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
• দীর্ঘদিন পেটের সমস্যা
• মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
• হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
• অতিরিক্ত দুর্বল লাগা
• পেটব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকা
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কোলন ক্যানসার এখন শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। তরুণদেরও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চা এই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
© Deshchitro 2024