পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের তালা অপসারণ শুরু করেছেন উপাচার্য। কয়েকদিন ধরে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে ববিতে তীব্র আন্দোলন চলছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে কর্মবিরতি, পরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। 


আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অন্তত ৭২ জন শিক্ষক তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, ফলে পুরো ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। 


শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। একাধিকবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। 


অন্যদিকে উপাচার্য ড. তৌফিক আলম দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিধির বাইরে গিয়ে পদোন্নতি দেওয়া তার এখতিয়ারে নেই। তবে তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন। 


এমন পরিস্থিতিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনিক দপ্তরের তালা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আংশিকভাবে চালু করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যায়। 


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024