|
Date: 2026-05-13 23:55:27 |
১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী উপজেলা নাঙ্গলকোট। প্রায় ২২৫.৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫২ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ৫ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত হিসেবে পরিচিত নাঙ্গলকোটে গত এক যুগে দৃশ্যমান উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। শতভাগ বিদ্যুতায়ন, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি এবং পৌরসভার উন্নয়ন—সব মিলিয়ে বদলে গেছে উপজেলার চিত্র।
তবে এত উন্নয়নের মাঝেও নাঙ্গলকোটবাসীর একটি দীর্ঘদিনের আক্ষেপ এখনো রয়ে গেছে—উপজেলায় নেই একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, ১৯৮৪ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর আজও নাঙ্গলকোটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন গড়ে ওঠেনি। ফলে উপজেলার কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পাশের উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে আসতেই অনেক সময় ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা মানুষের স্বপ্ন ভস্মীভূত হয়ে যায়।
নাঙ্গলকোটের চারপাশের প্রায় সব উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলেও এই বৃহৎ জনপদ এখনো সেই মৌলিক নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের ভাষায়, “ডাক্তার আসার আগেই রোগী মারা যায়”—ঠিক তেমনি ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুন সবকিছু গ্রাস করে ফেলে।
প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ডে কেউ হারাচ্ছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই, কেউবা হারাচ্ছেন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনা নাঙ্গলকোটবাসীর কাছে এখন আতঙ্কের নাম।
ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি নিয়ে বহুবার আলোচনা, প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস মিললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আর কত ক্ষয়ক্ষতি হলে নাঙ্গলকোটে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বাস্তবায়িত হবে?
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এখন নাঙ্গলকোটবাসীর প্রাণের দাবি একটাই—দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন।
কারণ একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি মানুষের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
© Deshchitro 2024