|
Date: 2026-05-11 11:59:41 |
নরসিংদী পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে আকরাম হোসেন তার বাড়ির ছাদ কৃষিতে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী এক বাগান। যেখানে চাষ হচ্ছে ৪৫ টি বিদেশি জাতের আঙ্গুর ফল। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় নানা রঙের আঙ্গুর ফল, যা দেখে এলাকার স্হানীয় জনগণ মুগ্ধ হচ্ছেন। তিনি একসময় শুধুই শখের কারণে বাগান শুরু করলে ও এখন তা এলাকায় হাতছানি দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার।
ঘোড়াশালের যুবক আকরাম হোসেন তার চাকরির পাশাপাশি নিজের বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন এই বাগান। শখের বশে শুরু করা আঙ্গুর বাগানে মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ঘোড়াশালে জিও ব্যাগে চারা রোপণ করেন আকরাম। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় মাত্র এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এবার নিয়ে টানা ২ বছর ধরে ঘোড়াশালে তার বাড়ির ছাদে আঙ্গুর চাষ করছেন তিনি। এখন তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুর ফল।
আঙ্গুর চাষী আকরাম হোসেন জানান, আমার বাগানে লোরাস, ভেলেজ,ডিক্সন,বাইকুনুর, ট্রান্সফিগারেশন, ভেলোদর, লুচিস্টিজ, একেলো, একাডেমিক, রেবেকা, এনজেলিকা, আলফা, ডাসুনিয়া,স্পাইস ও চকলেটসহ প্রায় ৪৫ টি উন্নত জাতের আঙুর রয়েছে। জাতগুলো বেশিরভাগই রাশিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্কের। তিনি জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে বানিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে আঙ্গুর চাষ করতে পারবো বলে আশা রাখি।
স্থানীয় যুবক সাইফুল ইসলাম জানান, ছাদে এভাবে আঙ্গুর চাষ আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। আঙ্গুরগুলো খুবই সুমিষ্ট। কীটনাশক ছাড়াই আঙুর চাষে তিনি সফলতা পেয়েছেন এটা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। এটি দেখে আমরা আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হচ্ছি।
এলাকাবাসী জানান, অনেকেই এখন আকরামের ছাদ বাগান দেখতে আসছেন এবং তার কাছ থেকে চাষের কৌশল শিখছেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ছাদভিত্তিক আঙ্গুর চাষ ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, আঙ্গুর বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।
© Deshchitro 2024