গাজীপুরের টঙ্গীতে নিখোঁজ হওয়ার আড়াই মাস পরও সন্ধান মেলেনি তা’মীরুল মিল্লাত মহিলা কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমার (১৫)। মেয়েকে ফিরে পেতে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তার মা খুশি বেগম।
পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের ধীরগতি ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় উদ্ধার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব প্রবাসী বাবার পরিবারটি আগে ঢাকার মানিকদী এলাকায় বসবাস করত। সেখানে স্থানীয় যুবক হাসিবুল সুলতান দীর্ঘদিন ধরে ফাতেমাকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশ হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিবারটি পরে টঙ্গীর হাউজপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়।
স্বজনদের দাবি, প্রায় আড়াই মাস আগে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে অভিযুক্ত হাসিবুল সুলতান কৌশলে ফাতেমাকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ রয়েছে।
নিখোঁজের পরপরই টঙ্গী পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন ফাতেমার মা খুশি বেগম। তার অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাবুদ্দিন শুরু থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। বিভিন্ন আশ্বাসের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খুশি বেগম বলেন, “আড়াই মাস হয়ে গেল। আমার মেয়েটা কোথায় আছে জানি না। থানায় গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমি শুধু আমার মেয়েকে ফিরে চাই।”
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সৌদি প্রবাসী বাবা বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে ভয়ভীতি ও হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন স্বজনরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই শাহাবুদ্দিন বলেন, “নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ওসি তদন্ত কর্মকর্তা ইমানুর রহমান জানান, ওসি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি যোগ দেওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি ক্রাইম) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।