নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের করফা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন করফা গ্রামের একলিম শেখ (৪২) ও কাশেম শেখ (৫০)। তারা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ ও ৫ নম্বর আসামি।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, করফা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া শেখের ছেলে মো. ছিদ্দিক শেখ (৭৩) গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আতোষপাড়া জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে পূর্বে ওৎ পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


এ ঘটনায় আহত ছিদ্দিক শেখ নিজেই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রউফ শেখ, কবির শেখ, একলিম শেখ, পিলু শেখ, কাশেম শেখ, রমজান শেখ, মারুফ শেখ ও হাশেম আলীসহ অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা রামদা, ছ্যানদা, চায়নিজ কুড়াল, লোহার রড, হাতুড়ি, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে ছিদ্দিক শেখকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলায় তার মাথা, হাত, ঘাড়, হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।


একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন। 


এবিষয়ে বৃদ্ধ ছিদ্দিকের সাথে কথা হলেন তিনি হামলার বীভৎস কাহিনি বলতে বলতে ভেংগে পড়েন। পরিশেষে তিনি বলেন আমি হয়তো মসজিদে আর নামাজ পড়তে পারবো না। কারন আমি পঙ্গু হয়ে গিয়েছি। তিনি 


এছাড়াও তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি ধামকি দিচ্ছে। মামলা না উঠিয়ে নিলে প্রাননাশের হুমকিও দিচ্ছে। ভীতি সংশয়ের মধ্যে দিয়ে সিন পার করছেন ওই ভুক্তভোগী পরিবারটি। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা 

করেন। এবং প্রশাসনের প্রতি ন্যায় বিচারের দাবি জানান।


এ বিষয়ে আসামীপক্ষের লোকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। 


এ ঘটনায় লোহাগড়া থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এস আই হাসিব বলেন, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে করফা এলাকা থেকে একলিম শেখ ও কাশেম শেখকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন মামলার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024