লাখাইয়ে বোরোধান কর্তনে হারভেস্টার মালিকদের সিন্ডিকেট,যেন মরার উপর খাঁরার ঘাঁ,,,,   লাখাই উপজেলায় আগাম বন্যায় তলিয়ে গিয়াছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। একদিকে ভারী বৃষ্টি আর বন্যার আতঙ্ক, অন্যদিকে ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টারের’ মালিকদের সিন্ডিকেটে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ কৃষক। সরকারিভাবে ধান কাটার রেট প্রতি কেয়ার (৩২ শতাংশ) ১৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও যন্ত্র মালিকরা কৃষকদের জিম্মি করে আদায় করছে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের এই ‘গলাকাটা’ পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। বুধবার(০৬ই মে)লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায় এক এক হাওরে এক এক রকম চার্জ আদায় করছে হারভেস্টার মালিকরা। সাতবিলা হাওরের মালিক মোঃ শরীফ মিয়া বলেন,উজান এবং নিচ মিলে আমার ১০কেয়ার ধানের জমি, বোরোধান চাষ করতে আমার মোট খরছ হয়েছে ৪৫হাজার টাকা, বন্যায় আমার ৬কেয়ার জমি তলিয়ে গিয়াছে,উজানে ৪কেয়ার জমিতে ধান পেঁকে মাঠিতে মিশে যাচ্ছে, একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে হারভেস্টার মালিকদের তালবাহানা, হারভেস্টার মালিকরা প্রতি কেয়ার ৪হাজার টাকা চাচ্ছে, কি করবো ভেবে পাচ্ছি না,আমি আর জীবনে বোরোধান চাষ করবো না। সিংহগ্রামের কৃষক আজিজুল হক বলেন,আমাদের হাওরের ধান তলিয়ে গিয়াছে,সবারই উজান হাওরে অল্প অল্প জমি আছে,ধান কর্তন করার সময় হয়েছে, কিন্তুু হারভেস্টার মালিকরা প্রতি কেয়ার ৪৫০০/৫০০০হাজার টাকা চাচ্ছে,সরকারী চার্জ অমান্য করে অতিরিক্ত চার্জ দাবি করছে,এ যেন"" মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।আমরা কৃষকদের আর কষ্ট বলার জায়গা নাই। কৃষকদের মতে, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে তদারকি না করার সুযোগেই হারভেস্টার মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বন্যাকবলিত এই দুর্দিনে কৃষকের মন বুঝতে নারাজ। কৃষকদের এই সংকটময় মুহূর্তে উপজেলা কৃষি বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী হারভেস্টার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024