|
Date: 2026-05-06 16:42:47 |
সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) বুধবার (৬ মে) থেকে শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জেলার সকল বিদ্যালয়ে একযোগে এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম দিন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শনিবার (৯ মে) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রাথমিক গণিত এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পরবর্তী ধাপে রোববার (১০ মে) তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক গণিত, সোমবার (১১ মে) একই শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান ও ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আরও জানায়, জেলার মোট ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে এই মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, শিক্ষার্থীদের শেখার মান উন্নয়নে এই মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি ক্লাস্টারের আওতায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন, যাতে করে মূল্যায়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি নিরূপণ করা যায়।
এবারের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কিছু নতুন নির্দেশনাও যুক্ত করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার ভিত্তিতে পাঠদান করা বিষয়ে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে যেসব বিষয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব ক্ষেত্রে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকাভিত্তিক বিষয়ে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকাভিত্তিক বিষয়ে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যকর থাকবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, পরীক্ষাকক্ষে শৃঙ্খলাপূর্ণ আসন বিন্যাস নিশ্চিত করা এবং উত্তরপত্র অন্তত এক বছর সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মূল্যায়ন কার্যক্রমও চলমান থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
© Deshchitro 2024