|
Date: 2026-05-05 19:50:44 |
লাখাইয়ে নতুন পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান ক্ষেতে জোক,আতঙ্কে কৃষকেরা।
লাখাইয়ের হাওরে ডুবে যাওয়া ধান ক্ষেতে জোঁক থাকার ভয়ে ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন না শ্রমিকেরা।ডুবে যাওয়া পাকা ধান জমিতেই ঝরে মিশে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পলিথিনের বা বিশেষভাবে তৈরি পাজামা পরে অনেক শ্রমিক ধান কাটছেন।
লাখাই উপজেলার ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের কয়েকটি হাওরে জোঁকের এই আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১১ হাজার ২২০হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। ধানের ফলন হলেও অসময়ে অতি বারিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় ৭০হেক্টর জমি তলিয়ে যায়,বৃষ্টি কম হওয়াতে পানি কমতে থাকে, কৃষকের একটু স্বস্তি মিললেও জোঁকের কারণে কৃষকেরা তাঁদের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান কাটাতে পারছেন না। চড়া মজুরি দিতে চাইলেও জোঁকের ভয়ে ধান কাটতে নামতে চাইছেন না শ্রমিকেরা।
বুল্লা ইউনিয়নের পুর্ব বুল্লা গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, নতুন পানিতে ইরি-বোরো ধানের খেতে হাজার হাজার জোঁক কিলবিল করছে। শ্রমিকেরা ধান কাটতে নামলেই দুই পায়ে আক্রমণ করে বসে জোঁক। এসব জোঁক পা বেয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উঠে আক্রমণ করে। জোঁকের ভয়ে শ্রমিকেরা ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে পানিতে থাকা পাকা ধান পানির নিচে এখন জমিতেই ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকেও জোঁকের আক্রমণ ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
গোয়াকড়া গ্রামের কৃষক আমিন মিয়া বলেন, গত বছর ৪০০ টাকা হারে শ্রমিক খাটিয়েছিলেন। কিন্তু এবার জোঁকের কারণে ৮০০ টাকা মজুরিতেও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। চড়া দাম দিয়েও শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক জমির মালিকরা দুই পা পলিথিন–জাতীয় কাপড় দিয়ে পাজামা বানিয়ে ধান কাটছেন।
পুর্ব বুল্লার কৃষক মোঃ ইসরাইল মিয়া বলেন,বারীবৃষ্টির কারনে জমি তলিয়ে গিয়াছিলো, এখন বৃষ্টি কম হওয়াতে পানি কমতে শুরু করেছে, আমার জমির তলিয়ে যাওয় ধান দেখতে পেয়ে মনে একটু আনন্দ লাগছে কিন্তু জমিতে পা রাখলেই খিল খিল করে শত শত জোক চলে আসে,প্রথমে একটু ভয় হয়,কিন্তুু কি করবো সারা বছর খাওয়াতো লাগবে,শ্রমিক নাই,তাই আমার ছেলেকে নিয়ে কষ্ট করে ধান কাটছি।
আগাম পানি আসায় ফসলি জমিতে জোঁকের প্রকোপ বাড়ার কারণে আতঙ্কে কাটছে কৃষকেরা।নতুন পানির সাথেই জোঁক জমিতে এসেছে বলে মনে করছেন কৃষকেরা, এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
© Deshchitro 2024