জামালপুরের ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পরিচয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে

স্বাস্থ্যকর্মীসহ তিন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। 


আজ শনিবার (২ মে) সকালে এঘটনাটি ঘটে। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুইদিন আগে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে একটি ডোবাজুড়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ভাসতে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এনিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়। এঘটনাকে পুঁজি করে ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী মো. মিস্টার, পরিবার কল্যাণ সহকারী মোছা. রনি বেগম এবং ওই ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সরকারি ওষুধ ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়ার অপরাধে মামলার ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোনে ওসির পরিচয়ে টাকা দাবি করা হয়। 




ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চরমুন্নিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. মিস্টার বলেন, 'ভোর বেলায় আমার মোবাইল ফোনে একটি নম্বর থেকে একটি কল আসে। আমি কল রিসিভ করলে মোবাইলের ওপর পাশ থেকে বলে, 'আমি ইসলামপুর থানার ওসি। সরকারি ওষুধ ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আপনার বিরুদ্ধে মামলা হতে যাচ্ছে। মামলা থেকে রেহাই পেতে হলে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে হবে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমার বিরুদ্ধে বড় ধরনের মামলা ঢুকে দেওয়ার একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, 'একইভাবে আমার সহকর্মী পরিবার কল্যাণ সহকারী মোছা. রনি বেগম এবং ক্লিনিক পরিচালনা সহকমিটির সভাপতি আবুল কাশেমের কাছেও টাকা দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি টিএইচও স্যারকে জানিয়েছি। '



ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. এএএম আবু তাহের বলেন, 'মোবাইল ফোনে ওসির পরিচয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের দুইজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ তিন জনের কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি থানায় জানিয়েছি।'


ওসির পরিচয় দিয়ে যে মোবাইল নম্বরে টাকা দাবি করা হয়েছে, ওই নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। 


এবিষয়ে যোগাযোগ করতে ইসলামপুর থানার ওসি মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজীর ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলে কল রিসিভ করে তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, 'ওসি স্যার ছুটিতে গেছেন। ওসি স্যারের পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে টাকা দাবির ঘটনায় এক ব্যক্তি এসেছিলো। তিনি ঘটনাটি জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত বাটপার শ্রেণির লোক এরকম ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির ফাঁদ পাতে। এসব প্রতারক থেকে সতর্ক থাকতে হবে।'

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024