|
Date: 2026-05-02 18:16:57 |
টাঙ্গাইলের মধুপুরে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। শনিবার (২ মে) সকাল ৯টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ভোটকেন্দ্রে (মধুপুর অডিটরিয়াম, জেলা পরিষদ, টাঙ্গাইল) হল রুমে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ করেন। ভোট প্রদান শেষ হবে বিকেল ৪টায়। নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪’শ ৭৮ জন ভোটার রয়েছে।
ভোটকেন্দ্র ছিল উৎসবের আমেজ। শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম তিনি বলেন, এত বছর পর এই নির্বাচন শিক্ষক সমাজে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলে আশা করেন। নির্বাচন পরিচালনায় ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক সমিতির পক্ষে সহকারী রিটানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি মুকুল একডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার তাহাজ্জত হোসেন। একই উপজেলার শিক্ষক সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট গ্রহণ করেন।
নির্বাচনকালীন সমিতির আহ্বায়ক আম্বারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ও মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব নুরুন্নবী শিহাবের দক্ষ পরিচালনা ও উপদেষ্টা পরিষদের দিক নির্দেশনায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোটগণনা হবে ৪টার পর। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা আরোও জানান, স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নবনির্বাচিত কমিটি শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বদলে গেল সিলেকশন প্রথা।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এ ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন। অফিসার ইনচার্জ একে এম ফজলুল হক। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সহ-সভাপতি এম রতন হায়দার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, পৌর বিএনপির আব্দুল লতিফ পান্না ও গণমাধ্যম কর্মী। উল্লেখ্য, নানা জটিলতা ও অনিবার্য কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সংগঠনের নির্বাচন বন্ধ ছিল। অবশেষে ৩৬ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
© Deshchitro 2024