|
Date: 2026-04-30 22:09:21 |
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আনুষ্ঠানিক ক্রয়চুক্তি সই করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিমানের পক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন বিমানের এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এ চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিমানকে এমন একটি স্বল্পসংখ্যক এয়ারলাইনসে পরিণত করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এভিয়েশন খাতকে নিয়ে অনেক বেশি এম্বিশিয়াস প্রধানমন্ত্রী।
বিমান পরিচালনা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা করছেন। পুরোনো বোয়িংগুলো সরিয়ে নতুন বোয়িং রিপ্লেস করা হচ্ছে।
এতে বিমানের যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে। আমরা ইতোমধ্যে ২৫শতাংশ দেশি যাত্রী সার্ভ করছি। তাই আমাদের বেশি বোয়িং প্রয়োজন। আমাদের বাইরের এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেক দূর যেতে হবে।
জানা যায়, নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এসব বিমান প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত সুবিধা দেবে।
বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান কেনা নিয়ে চুক্তি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সে চুক্তির পরবর্তী ধাপই এ চুক্তি।
চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের এ বিনিয়োগ দেশের বিমান খাতে অন্যতম বৃহৎ ক্রয়চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনাও আরও শক্তিশালী হবে।
© Deshchitro 2024