|
Date: 2026-04-28 17:12:39 |
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দেশের ১৬৩ উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং এন্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন। সারা দেশের ১৬২ টি উপজেলায় ইতোমধ্যে আইসিটি ভবন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমির মালিকানা দাবী করে কাজ শুরু করতে বাঁধা প্রদান করছে একটি পক্ষ। উক্ত বাঁধা প্রদানের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কলেজ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুল আলম,মাইজবাগ পাছাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুস সুলতান (শাহীন) ও ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম.এ ফারুক, বলেন,‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বর্তমান আধুনিক বিশ্বের চালিকাশক্তি, যা শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এটি তথ্য আদান-প্রদান সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করেছে, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে উন্নত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উন্নয়নে প্রস্তাবিত আইসিটি ভবনের কাজে যারা বাধাঁ দিচ্ছে এবং যারা নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে আমরা তাদের দ্রুত বিচার দাবি জানাচ্ছি। সেইসাথে অবিলম্বে প্রস্তাবিত জায়গায় আইসিটি ভবন নির্মাণের জোর দাবী জানাচ্ছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ প্রমুখ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউআইটিআরসিই-২ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ১০ শতাংশ জমি আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য নির্বাচিত করে প্রস্তাবনা পাঠান তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে রুমানা তুয়া। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে অনুমোদিত সারা দেশের ১৬৩ টি আইসিটি ভবনের মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাতে একটি আইসিটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। বিপত্তি বাঁধে আইসিটি ভবনের নির্মাণকাজ শুরুর সময় ২০২৩ সালে। স্থানীয় মকবুল হোসেন (৪৫) গংরা প্রস্তাবিত জায়গার সাড়ে ৪ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে বাধাঁ প্রদান করেন। এবিষয়ে প্রস্তাবিত আইসিটি ভবনের জায়গার মালিক দাবি করে আসা পরিবারের সদস্য মাসুদ আল নোমান বলেন,প্রস্তাবিত আইসিটি ভবনের সাড়ে ৪ শতাংশ জায়গার রেকর্ডমূলে পৈত্রিক সুত্রে মালিক আমরা। যেখানে রয়েছে আমাদের পারিবারিক কবরস্থান। যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। জনস্বার্থে আইসিটি ভবনের কাজ হোক তা আমরাও চাই, কিন্তু বিষয়টার কোন সুরাহা না করে জোরপূর্বক আমাদের কবরস্থান দখল, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং পুলিশ দিয়ে দুই মহিলাকে আটকে রেখে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক, আমরা এটার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ বিষয়ে আইসিটি ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা কোরিয়ান হোবান ইএনসি কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার বলেন,‘ইউএনও অফিস থেকে আমাদের এই জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য। স্থানীয় মকবুল হোসেনসহ কয়েকজন বাসিন্দা নির্মাণ কাজে বাঁধা দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে ভবন নির্মাণ কাজ সম্ভব নয়। বিষয়টি আমাদের কোম্পানি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, উপজেলা পরিষদের ১ একর ৭৪ শতাংশ জায়গার অধীনেই আইসিটি ভবনের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। প্রস্তুাবিত ভবনের কাজে বাঁধা প্রদানের এখতিয়ার কারও নেই। কেননা বিআরএস রেকর্ডমূলে উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বারবার সতর্ক করার পরেও স্থানীয় একটি মহল বে-আইনিভাবে আইসিটি ভবনের কাজে বাঁধা প্রদান করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রেখে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন,‘আইসিটি ভবনটি হলে ঈশ্বরগঞ্জের আপামর জনগণ তার সুফল পাবে। সরকারি বরাদ্দ ফেরত গেলে পিছিয়ে থাকবে ঈশ্বরগঞ্জের মানুষ। ভবনটি উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই করা হচ্ছে। সরকার ৪০ বছর আগে এই জমি অধিগ্রহণ করে নিয়েছে। যারা প্রস্তাবিত জমিতে নির্মাণ কাজে বাধাঁ দিয়েছিল তাদের দফায় দফায় বুঝিয়ে বলার পরও কর্ণপাত করেনি। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসিটি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে।
© Deshchitro 2024