|
Date: 2026-04-25 02:23:40 |
মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম শহর থেকে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার যেন এক নীরব ভোগান্তির প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মজীবনের ব্যস্ততা শেষে যখন মানুষজন আপন নীড়ে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই তাদের এই স্বাভাবিক যাত্রা হয়ে ওঠে অতিরিক্ত ভাড়ার এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো কষ্টকর অভিজ্ঞতা।
বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও শনিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এক ধরনের অঘোষিত ভাড়া বৃদ্ধির সংস্কৃতি। এই দুই দিনকে সামনে রেখে কিছু পরিবহন চালক ও মালিক যেন আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে কখন যাত্রীদের ভিড় বাড়বে, আর কখন সেই সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে। লোকাল বাসগুলো একপ্রকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একই কৌশল অবলম্বন করে। ফলে যাত্রীরা কোথাও গিয়ে স্বস্তি পায় না। এক বাস ছেড়ে আরেক বাসে উঠলেও ভাড়ার চিত্র থাকে একই রকম। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষরা। প্রতিদিনের সীমিত আয়ের হিসাব কষে চলা এসব মানুষকে হঠাৎ করে বাড়তি ভাড়া গুনতে গিয়ে পড়তে হয় বাড়তি চাপের মুখে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দেয়, আবার কেউ কষ্টে-সৃষ্টে সেই অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করে। কিন্তু প্রতিবাদ করার মতো শক্ত অবস্থান বা সুযোগ তাদের থাকে না বললেই চলে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার চোখে পড়ে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব এবং কঠোর পদক্ষেপের অনুপস্থিতি যেন এই অনিয়মকে আরও প্রশ্রয় দিচ্ছে। ফলে দিন দিন এই ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা একটি নিয়মে পরিণত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, মানুষ এই অন্যায়কে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে শুধুমাত্র প্রয়োজনের তাগিদে। পরিবার পরিজনের কাছে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তাদের নীরব করে দেয়, প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নেয়। তারা যেন একেকজন বলির পাঠা, যাদের অনুভূতি ও কষ্টের কোনো মূল্য নেই এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কাছে। তবে আশার আলো এখনো নিভে যায়নি। সচেতন মহল মনে করে, যথাযথ নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। যাত্রীরা প্রত্যাশা করে একদিন হয়তো এই অন্যায় ও অবিচারের অবসান ঘটবে। নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে পরিবহন ব্যবস্থায়, আর সাধারণ মানুষ পাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ। সেই প্রত্যাশা বুকে ধারণ করেই লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার মানুষ প্রতিটি বৃহস্পতিবার ও শনিবার অপেক্ষা করে একটি ন্যায্য, স্বস্তিদায়ক যাত্রার দিনের জন্য।
© Deshchitro 2024