|
Date: 2026-04-14 15:49:18 |
শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দাবিতে দিনব্যাপী মানববন্ধন ও ব্যানার স্থাপন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় তরুণরা। সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার দরবেশতলা সীমান্ত সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘ঝিনাইগাতী সম্মিলিত তরুণ সমাজ’।
সমাবেশে বক্তারা গারো পাহাড় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তা রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বনাঞ্চলের পুরোনো বড় গাছগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে বনকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত পাখিদের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় এ সময়ে গাছ কাটা বন্ধে কার্যকর আইন প্রণয়ন জরুরি। অন্যথায় পাখিদের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এ সময় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বক্তাদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা বন্যপ্রাণীর পানির উৎস নষ্ট করছে এবং কৃষিজমিকে অনুপযোগী করে তুলছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্মসূচিতে বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর ইমনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, গারো পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তরুণদের এমন উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং বনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, একশ্রেণির বনখেকো ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া রেঞ্জের অধীন সরকারি বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে ধ্বংস করছে। এছাড়াও বিভিন্ন ঝোড়া ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে আসছে। এ কারণে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে তরুণরা।
© Deshchitro 2024