|
Date: 2026-04-07 09:22:05 |
শার্শায় উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে তুমুল বিতর্ক: পিআইওকে হুমকির অডিও ফাঁস, আবার তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন
হুমকির অডিও বনাম দুর্নীতির অভিযোগ শার্শায় প্রকল্প নিয়ে চরম বিতর্ক
শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে জটিল ও বিতর্কিত পরিস্থিতি। একদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুকে হুমকির অভিযোগে একটি অডিও ফাঁস হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন পিআইওর সঙ্গে কথোপকথনে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বণ্টন নিয়ে সরাসরি চাপ প্রয়োগ করছেন। তিনি নিজেকে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে নির্বাচনের কথা বলেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজের প্রভাব নিশ্চিত করার ইঙ্গিত দেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার দাবি এবং তা না মানলে ‘সমস্যা’ তৈরির হুমকিও উচ্চারিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে এবং সেটা ১০ /১৫ দিনের মধ্যে বোঝানো হবে বলে বলা হয়।
এদিকে, এই ঘটনার মধ্যেই রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় শার্শা উপজেলা পরিষদের সামনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং কার্যালয়ের সামনে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন।
স্মারকলিপিতে পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং এতে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ডিহি ইউনিয়নের ট্যাংরালী সড়কসহ একাধিক প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। কোথাও বালির পরিবর্তে মাটির ওপর ইট বসানো হয়েছে, আবার কোথাও অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন, একই ঠিকাদারকে একাধিক প্রকল্প প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগের পক্ষে ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এদিকে সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে অভিযুক্ত পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু মুঠোফোনে বলেন,গ্রামীণ অবকাঠামো বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প কাজের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন এ কাজ গুলো তার অনুসারী লোকজনকে দিয়ে করাতে।তখন আমি জানায় এসব কাজ পাইয়ে দেয়া আমার কাজ না।তখন নুরুজ্জামান লিটন বলেন আমি নাকি কায়বা ইউনিয়নের কাজগুলো উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহিরের সমার্থক কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহারিয়ার মুকুলকে পাইয়ে দিচ্ছি।আমি কথাটি মিথ্যা দাবী করলে নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ১০ দিনের ভিতর দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং এ উপজেলায় আমি যাহাতে না চাকরি করতে পারি তার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।তাই হয়তো তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আমাকে হেওপ্রতিপ্ন করতে তার অনুসারী লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন।আসলে মুল বিষয় হলো গ্রামীণ অবকাঠামো বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নামে গঠিত একটি কমিটি করা আছে।সেই কমিটির মাধ্যমে কাজগুলো করে ইউপি চেয়ারম্যান বা প্রশাসক।আর আমার কাজ হলো কাজটি বুঝে নেওয়া।
এদিকে একদিকে হুমকির অডিও ফাঁস, অন্যদিকে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ—দুই বিপরীতমুখী ঘটনায় শার্শার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
© Deshchitro 2024