রাজধানীর নামী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা. চাঁদ সুলতানা ডোরার অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চিকিৎসকের অবহেলার বিতর্ক নতুন করে দানা বেঁধেছে। আজ শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অদক্ষতাকে দায়ী করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. ডোরার মা শিরিন সৈয়দা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, গত ২৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ডা. ডোরাকে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও ডিউটিরত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রেহনুমা জাহান রাতভর তাকে দেখতে আসেননি। ভর্তির দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পর পরদিন সকালে তিনি নামমাত্র সময়ের জন্য রোগীকে পরিদর্শন করেন।পরিবারের দাবি, কোনো গভীর ঝুঁকি বিশ্লেষণ (Risk Assessment) ছাড়াই দায়সারাভাবে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল।

নিহতের স্বামী ডা. মো. নজরুল ইসলাম, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, হাসপাতালের কারিগরি গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন:"আমার স্ত্রী নিজেও একজন চিকিৎসক ছিলেন। অথচ তাকে চরম সংক্রমণের ঝুঁকিতে রেখেও সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি। হার্টবিট স্বাভাবিক বলার কিছুক্ষণ পরই শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সবচেয়ে বড় আক্ষেপের বিষয় হলো, সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে প্রয়োজনীয় আইসিইউ (ICU) বা এইচডিইউ (HDU) সাপোর্ট দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চরম কালক্ষেপণ করেছে।"

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ডা. ডোরার বাবা মানসুর উদ্দিন এবং চাচা শেখ নিজাম উদ্দিন সুইটসহ স্বজনরা তিন দফা দাবি পেশ করেছেন:

 * অভিযুক্ত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রেহনুমা জাহানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

 * পুরো চিকিৎসা দলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন।

 * পেশাদারিত্বে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স বাতিল করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি একজন চিকিৎসকের স্ত্রী হয়ে ডা. ডোরা এমন ন্যাক্কারজনক অবহেলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? তারা দেশের স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং এই ঘটনার বিচার নিশ্চিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও বিএমডিসি (BMDC)-র দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন।সংবাদ সম্মেলন শেষে ডা. ডোরার পরিবার এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024