|
Date: 2026-03-12 12:19:13 |
যশোরে অপহরণের দীর্ঘ ৯ দিন পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫)। গত ২ মার্চ শংকরপুর এলাকা থেকে অপহৃত হওয়া এই ব্যবসায়ীকে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চৌগাছা উপজেলার খলশি গ্রামের একটি নির্জন ইটভাটা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৬।উদ্ধারের সময় তাকে হাত-পা বাঁধা এবং অত্যন্ত বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।গত ২ মার্চ রাত ৯টা। যশোর শহরের ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’ বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু পথিমধ্যে একটি সাদা মাইক্রোবাস তার গতিরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যেই তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে।
অপহরণের মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় অপহৃতের নিজের ফোন থেকেই কল আসে তার মা ও স্ত্রীর কাছে। ওপাশ থেকে দাবি করা হয় ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ। শর্ত দেওয়া হয়— টাকা দিলে মুক্তি, আর পুলিশকে জানালে পরিণতি হবে ভয়াবহ।"আমার স্বামীই পরিবারের একমাত্র আশার আলো। তাকে ছাড়া তিন মেয়েকে নিয়ে আমরা কোথায় যাব?" — সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এই আকুতি জানিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন।পুলিশের তৎপরতায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে গত ৪ মার্চ যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রেশমা খাতুন। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তথ্য-প্রযুক্তির জাল বিছিয়ে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব-৬-এর একটি বিশেষ দল।
বুধবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স। চৌগাছার নির্জন একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে শিকলবন্দি দশা থেকে জাহাঙ্গীরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাত ১২টা ৩০ মিনিটে তাকে যশোর র্যাব ক্যাম্পে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানিয়েছেন, অপহরণের সাথে জড়িত পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© Deshchitro 2024