নেপালে সাধারণ নির্বাচনের পর ভোট গণনা চলছে। প্রাথমিক গণনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের (জেন জি) পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। ওই দলের প্রধান হলেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ। তিনি গত বছর জেন জিদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন। 


শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত প্রাথমিক ফলাফলে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি এগিয়ে ছিল। গণনায় দেখা গেছে, সারা দেশে ৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে ওই দল। ফলে নতুন এই দলটি নির্বাচনের শুরুতেই সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দল হিসেবে দেখা যাচ্ছে।


অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেস এখন পর্যন্ত একটি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি দলটি আরও ১০টি আসনে এগিয়ে আছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) সাতটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্য বাম দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীরা ৯টি আসনে এগিয়ে আছেন।

দেশজুড়ে এই নির্বাচনে মোট ৬৭টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তারা ১৬৫টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।


এখনো দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোট গণনা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

দুর্নীতিবিরোধী জেন জি বিক্ষোভের সাড়ে ছয় মাস পর নেপালে হওয়া সাধারণ নির্বাচনে প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। গত বৃহস্পতিবার দেশটির মোট ভোটারের মাত্র ৫৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অথচ ২০০৮ সালের সাংবিধানিক পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২২ সালের নির্বাচন পর্যন্ত নেপালে ভোটদানের গড় হার ছিল ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ।


আজ শনিবার সকাল নাগাদ ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টের ১৬৫টি আসনের ফল পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ১৬৫টি আসনেই প্রত্যক্ষ নির্বাচন হয়। সংখ্যানুপাত পদ্ধতিতে বাকি ১১০টি আসন দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।


রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র, ৩৫ বছর বয়সী র‌্যাপার বালেন্দ্রর নির্বাচনি প্রচারে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। অনলাইন-অফলাইনে অসংখ্য তরুণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন তিনি, যারা পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার।


দেশটির তিন কোটি মানুষ কয়েক দশক ধরেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ক্রমেই পঙ্গু হয়ে আসছে, বেকারত্ব বাড়ছে, ব্যাপক দুর্নীতি এসব সমস্যাকে আরও প্রকট করছে। এসব ঘিরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, অসন্তোষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিস্ফোরিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন, বাধে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, যার জেরে শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পদত্যাগ করতে হয়।


গত তিন দশকে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল), নেপালি কংগ্রেস ও নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেই ক্ষমতার পালাবদল দেখা গেছে। এবার তাতে ছেদ ঘটার সম্ভাবনা যে প্রবল, ভোটের প্রাথমিক গণনার ফলেই তা বোঝা যাচ্ছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট, এনডিটিভি

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024