|
Date: 2026-03-03 20:54:43 |
ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়, পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস বা নকলের চেষ্টা রোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পুনরায় তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শরীর তল্লাশি (বডি সার্চ) নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে বলেও শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের টয়লেটেও যদি নকলের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে। নকল প্রতিরোধে দেশব্যাপী উদ্বুদ্ধকরণ সভা (মোটিভেশনাল মিটিং) আয়োজনের কথাও জানান তিনি।
মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
এ ছাড়া যেসব জেলায় জিলা স্কুল নেই, সেখানে নতুন জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠান প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে পরিচালিত হবে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
© Deshchitro 2024