|
Date: 2026-02-12 13:12:41 |
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে যশোর-৩ (সদর) আসনে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
সকাল ৭টা ৪০ মিনিট। তখনও তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়নি। কিন্তু কেন্দ্রের বাইরে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিলেন রাজনৈতিক কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভিড়ের ওপর চড়াও হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটাররা ছোটাছুটি শুরু করেন।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তালবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু হোসেন (২৫) এবং আব্দুল গণি (৫০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা উভয়েই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মতে, তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তবে তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
স্থানীয় সূত্র ও ভোটারদের দাবি, এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। জামায়াত কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্যাডাররা ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই হামলা চালিয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। “আমরা ভোট দিতে এসেছিলাম, কিন্তু কেন্দ্রের সামনেই মারামারি দেখে পিছিয়ে গেছি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।” > — একজন সাধারণ ভোটার, তালবাড়িয়া গ্রাম।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জানিয়েছেন, কেন্দ্রের ভেতরে কোনো সমস্যা হয়নি, যা ঘটেছে তা সীমানার বাইরে।নির্বাচনি বিশেষ পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, যশোরের এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাটি বড় ধরনের সহিংসতার রূপ নিতে পারতো, কিন্তু দ্রুত হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে সারা দেশের ভোটারদের মনে এই ঘটনাটি একটি উদ্বেগের রেখা টেনে দিয়েছে।
© Deshchitro 2024