যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মাটি ও মানুষের রাজনীতির অন্যতম পথিকৃৎ, গণমানুষের প্রিয় মুখ আবু তাহের সিদ্দিকী আর নেই। আজ শুক্রবার খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর এই প্রয়াণে বাঘারপাড়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।আবু তাহের সিদ্দিকী কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সফল জননেতা। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি ছিল তৃণমূল। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হওয়া তাঁর জনপ্রিয়তার এক অকাট্য প্রমাণ। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পুরো উপজেলার উন্নয়নে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন।

বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ছিলেন দলের দুঃসময়ের কান্ডারি। সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে তিনি দলকে সুসংহত করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন।রাস্তাঘাট নির্মাণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন—সবখানেই তাঁর হাতের ছাপ রয়েছে। তবে ইট-পাথরের উন্নয়নের চেয়েও তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোকে। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন 'সজ্জন ও অভিভাবকতুল্য' মানুষ। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্ট্রোক পরবর্তী জটিলতায় ভুগে তিনি আজ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বাঘারপাড়াসহ পুরো যশোর জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবখানেই আজ প্রিয় এই নেতার স্মৃতিচারণ।বাঘারপাড়ার আকাশ থেকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়ল ঠিকই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়নমূলক কাজ এবং আদর্শ স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024