|
Date: 2026-02-02 19:33:13 |
ঘর থেকে বের হয়েছিলেন সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে। কিন্তু সেই বাজার আর করা হলো না ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ ইয়াকুব আলী মোল্যার। নওয়াপাড়া বাজারের ব্যস্ততম নূরবাগ এলাকায় ঘাতক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ। সোমবার দুপুরের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা সরখোলা গ্রাম।এলাকায় শান্ত স্বভাবের প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ইয়াকুব আলী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যশোর থেকে আসা একটি দ্রুতগতির খালি ট্রাক তাকে এতটাই সজোরে ধাক্কা দেয় যে, মুহূর্তেই তিনি ছিটকে মহাসড়কের ওপর পড়ে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রাকের পেছনের চাকা তার শরীর পিষ্ট করে চলে যায়। পিচঢালা কালো রাস্তা মুহূর্তেই লাল হয়ে যায় প্রবীণ এই মানুষের রক্তে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা তাৎক্ষণিক ধাওয়া করে ঘাতক ট্রাকটি আটক করেন এবং চালককে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে পুলিশ চালককে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং ট্রাকটি জব্দ করে।নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মহাসড়কের এই অংশটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে:জনবহুল বাজার এলাকায় চালকরা ট্রাকের গতি কমান না।কোনো ফুটওভার ব্রিজ বা কার্যকর স্পিড ব্রেকার নেই।ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের অবহেলা।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ফজলুল করিম বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। চালকের গাফিলতি ও দ্রুতগতির বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ট্রাক ও চালক দুই-ই আমাদের হেফাজতে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।"বিকেলে যখন ইয়াকুব আলীর মরদেহ গ্রামে পৌঁছায়, তখন সেখানে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রশ্ন উঠেছে আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে প্রশাসনের? নওয়াপাড়া বাজারের এই মৃত্যুমিছিল থামাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন সাধারণ মানুষের।
© Deshchitro 2024