যশোরের বাঘারপাড়ায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা নসাৎ হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গ্রেনেড এবং আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম।সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের দাড়িহাগড়া পূর্বপাড়া গ্রামে এই অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দড়িআগ্রা গ্রামের বাসিন্দা চুন্নু মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লা (২৮), যার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। তবে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় মূল অভিযুক্ত রায়হান।পলাতক রায়হান মোল্লার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে যৌথ বাহিনী একটি গোপন অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পায়। ড্রাম ও স্টিল ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়:

৪টি বিদেশি পিস্তল

১০টি গ্রেনেড সদৃশ শক্তিশালী বিস্ফোরক

৩৭ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ

২টি ওয়্যারলেস (ওয়াকিটকি) সেট

বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা

উদ্ধারকৃত গ্রেনেডগুলো জননিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত 'বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল' (Bomb Disposal Unit) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেগুলো নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ মরণাস্ত্র দিয়ে বড় ধরনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, "পলাতক রায়হান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।"সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা দেখলে নিকটস্থ সেনাক্যাম্প বা পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024