|
Date: 2026-01-29 18:39:47 |
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে একটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জামালী নিহত রেজাউল করিমের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। এতে নিহতের মাথার পেছনে গুরুতর থেঁতলানো জখম এবং কপাল ও নাকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ এন এম আল মামুন ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, আঘাতজনিত কারণেই রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে বলে তিনি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে হট্টগোল এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাওলানা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার আবদুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছোট ভাই মো. মাসুদুর রহমান, যিনি শ্রীবরদী মথুরাধি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি জানান, মরদেহ নিজ এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। বিকেল পাঁচটায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা এবং রাত সাড়ে আটটায় নিজ গ্রাম গোপালখিলা স্কুলের মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করছি।”
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় বর্তমানে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জামায়াতের দুজন ও বিএনপির একজন নেতা রয়েছেন। আহতরা হলেন, শ্রীবরদী পৌর জামায়াতের আমির মো. তাহেরুন ইসলাম, জামায়াত কর্মী আমিরুল ইসলাম, ঝিনাইগাতীর একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজাউদ্দৌলা।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাঈনউদ্দিন খান জানান, তিনজনের শরীরেই ইটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্য দুজনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
© Deshchitro 2024