নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার:

ঢাকার সাভারে একটি থানার অদূরেই  দীর্ঘ সময় ধরে অবাধে চলাফেরা করছিল এক ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার মোশিউর রহমান খান সম্রাট।  মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে ছয়টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরের বাইরে থেকেই গেছে।

 অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার ছদ্মবেশ পরিবর্তন করে এলাকায় অবস্থান করত। কখনো সাধারণ পথচারী, কখনো শ্রমজীবী মানুষ সেজে সে চলাফেরা করলেও তার গতিবিধি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পরপরই সে এলাকা বদলে ফেলত, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তোলে।

একই ধরণ, একই প্যাটার্ন। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে একাধিক মিল পাওয়া গেছে। সময়, স্থান নির্বাচন এবং ঘটনার পর অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার কৌশল ছিল প্রায় একই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি স্পষ্টভাবে একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়।

থানার কাছেই অপরাধ, প্রশ্নে নজরদারি

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে থানার আশপাশের এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত টহল থাকলেও সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি শনাক্ত করা হয়নি। এতে করে থানার আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের ভয় ও ক্ষোভ

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, একের পর এক হত্যার ঘটনায় তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে দাবি করেন, প্রথম দিকেই যদি ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে সমন্বিত তদন্ত শুরু হতো, তাহলে হয়তো পরবর্তী হত্যাগুলো ঠেকানো সম্ভব ছিল।

তদন্তে গাফিলতি নাকি কৌশলী অপরাধী?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র  ইঙ্গিত দেয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত ধূর্ত ও পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে দক্ষ ছিল। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, তদন্তের শুরুতে তথ্য আদান-প্রদান ও গোয়েন্দা নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না।

বর্তমান অবস্থা

 সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করতে নতুন করে তদন্ত চলছে এবং সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মো: রাসেল তালুকদার সাধীন বলেন একটাই দাবি—শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কারণ সাত মাসে ছয়টি প্রাণ হারানোর পরও যদি অপরাধীরা নিরাপদে ঘুরে বেড়ায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024