মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম। 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিচার ব্যবস্থায় যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহরে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে যে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন হাজারো বিচারপ্রার্থী, তার অবসান হতে যাচ্ছে অবশেষে।


সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হস্তান্তরের আদেশ জারি করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম কোট বিল্ডিংয়ে গিয়ে মামলা পরিচালনার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।


বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় আইন ও বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৪-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ আশেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করা হয়। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এসে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি বিরাজ করছে।


প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সালের ৫ নম্বর আইন)-এর ১১ ধারার উপধারা (২৩) অনুসারে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার আওতাধীন সকল ফৌজদারি মামলা সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেই বিচারাধীন হবে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় কমবে এবং বিচার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে।


এই আদেশের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়। স্থানীয় আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ একে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।


এলাকাবাসীর মতে, নিজ এলাকায় আদালত কার্যক্রম শুরু হলে বিচার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবে এবং অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমে আসবে।


এ বিষয়ে সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম (মানিক) বলেন, সাতকানিয়া চৌকিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হস্তান্তরের ফলে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার জনগণকে আর ফৌজদারি মামলার জন্য চট্টগ্রাম শহরে যেতে হবে না। এতে বিচারপ্রার্থীদের আর্থিক ও মানসিক কষ্ট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি জামিনযোগ্য মামলার আসামি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরও যানবাহন জোগাড় করে দূরপাল্লার যাতায়াতের ঝামেলা পোহাতে হবে না।এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি দাশ বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থানীয় পর্যায়ে হস্তান্তরের এই সিদ্ধান্ত বিচার ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে এসেছে। এতে করে মামলা পরিচালনা সহজ হবে, বিচারিক কার্যক্রম দ্রুততর হবে এবং জনগণের মধ্যে আদালতের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি মনে করেন।


সাতকানিয়া আইনজীবী সহকারী  সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ফরিদ উদ্দিন  চৌধুরী বলেন, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবির বাস্তব প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত। নিজ এলাকায় আদালত কার্যক্রম পরিচালিত হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থায় গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এতে ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বাস্তব সুফল পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024