|
Date: 2026-01-08 20:16:28 |
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও অনৈতিক আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মনিরুল আলম উজায়মারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষক সমাজের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১টার দিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একই দিন সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী মোছা. সিনা আক্তার (৩১)। মামলায় মনিরুল আলম (৪০) ছাড়াও তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) এবং ভাবি স্বপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় কনের পরিবার থেকে নগদ অর্থ, আসবাবপত্র, সেলাই মেশিন, ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক প্রদান করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের পর অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মনিরুল আলম তার ভাই ও ভাবির সহায়তায় স্ত্রীকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও নারী সংক্রান্ত অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ছিল। তবে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সেসব অভিযোগ তৎকালীন সময়ে আলোচনায় আসেনি। সাম্প্রতিক মামলার পর পুরনো অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও, একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিভাবক ও সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন। তারা মনে করছেন, এমন ঘটনার ফলে শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উজায়মারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী জানান, মনিরুল আলম পারিবারিক কারণ দেখিয়ে প্রথমে তিন দিনের ছুটি নেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আরও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© Deshchitro 2024