|
Date: 2026-01-08 12:02:59 |
সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা না থাকায় জামালপুরের ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষ 'হ্যাঁ ভোট', 'না ভোট' কিংবা সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধি সম্পর্কে অসচেতনই থাকছেন। বিশেষ করে গণভোটের বিষয়ে কিছু অবগত নন ব্রহ্মপুত্র নদের উপকূলীয় অঞ্চল এবং যমুনা নদী উপকূলীয় ও মধ্যবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা। ভোটের দিন এগিয়ে এলেও এবিষয়ে তাঁদের সচেতন করতেও কোনো ধরনের প্রচারণা নেই। তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত রয়েছে, এমন কিছু এলাকায় জেলা তথ্য কার্যালয়ের উদ্যোগে সিএনজি চালিত গাড়িযোগে নামকাওয়াস্তে ভোটের প্রচারভিযান লক্ষ্য করা গেছে। মূলত প্রচারভিযানের বাইরে রয়েছে সিংহভাগ এলাকা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটের গুরুত্ব মানুষের কাছে তুলে ধরতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সারা দেশে প্রচার চালানো হচ্ছে। 'দেশের চাবি আপনার হাতে' প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত ২২ ডিসেম্বর শুরু হয় ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভানের প্রচার কার্যক্রম। ১০টি গাড়িতে করে ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হচ্ছে। ৩১ জানুয়ারি শেষ হবে এই কার্যক্রম।
ওইসব গাড়ি থেকে সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে গণভোটের বিষয়ে বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ফেলানী হত্যা, আবরার ফাহাদ হত্যা, প্রতিবেশী দেশের প্রভাব ও নির্ভরশীলতার মতো ঘটনাগুলোও বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে।
এসব গাড়ি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব, ভোট দেওয়ার নিয়ম, ভোটকেন্দ্রে করণীয় ও বর্জনীয়, গোপন ব্যালটের নিরাপত্তার বিষয়গুলো ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখানো হচ্ছে। সাউন্ড সিস্টেম ও ভিজুয়াল কনটেন্টের মাধ্যমে ভোটারদের বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরার সঙ্গে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হচ্ছে ওই প্রচারণা থেকে।
সরেজমিনে জানা যায়, ভোটের দিন এগিয়ে এলেও এখনও ভোটের গাড়ি প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে প্রচারে আসেনি। প্রচারকাজে অংশ নেওয়া ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান শুধু শহর এলাকাতেই ঘুরছে। নামকাওয়াস্তে ভোটের গাড়ি প্রচার হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব গাড়ি না যাওয়ায় বেশির ভাগ ভোটার এই প্রচারণার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। ফলে ওইসব এলাকার মানুষ 'হ্যাঁ ভোট' কিংবা 'না ভোট' সম্পর্কে থাকছেন অজ্ঞ।
ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের যমুনা নদীর উপকূলনীয় উলিয়া গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, 'হ্যাঁ-না ভোটের বিষয়ে কিছুই জানি না। ভোটের খবর টিভিতে দেখছি। ভোটের গাড়িটা যদি এলাকায় প্রচার করত, তাহলে আমরা একটু বুঝতে পারতাম।'
একই উপজেলার যমুনা নদীর মধ্যবর্তী সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও কড়াপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, 'আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ গণভোটের বিষয়ে জানেন না। এবিষয়ে কোনো প্রচারও দেখছি না।'
বকশীগঞ্জের নীলাখিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা গ্রামের বাসিন্দা সুলাইমান মোল্লা বলেন, 'আমরা যারা একদম গ্রামে বসবাস করি, তারা জানতে পারিনি গণভোটের বিষয়ে। ভোটের গাড়ি কী? সেটাও জানি না।'
দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের উপকূলীয় অঞ্চল খোলাবাড়ি মুন্নেপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবেদ আলী বলেন, 'আমরা মার্কা বুঝি। মার্কায়নভোট দেব। কিন্তু হ্যাঁ-না ভোটের বিষয়ে বুঝি না। ভোটের প্রচার গাড়ি এলাকায় দেখিনি।'
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামান হোসেন চৌধুরী বলেন, 'ভোটের প্রচার গাড়ি মাঝে-মধ্যে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছে। ভোটের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আমরা বৈঠক করে যাচ্ছি। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ভোটের প্রচার ব্যানার, স্টিকার পেলে, সেগুলো এলাকায় সাঁটিয়ে দেওয়া হবে।'
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হামিদ ইকবাল বলেন, 'ভোটার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।'
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, 'ভোটের আচরণ বিধি এবং গণভোটের বিষয়ে ভোটার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। এবিষয়ে জেলা তথ্য কার্যালয় থেকে প্রচারাভিয়ান চলছে। যেসব এলাকায় এখনও ভোটের প্রচার করা হয়নি, সেসব এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা চালানো হবে।'
© Deshchitro 2024