‎জবি প্রতিনিধি


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলেও ওএমআর মেশিনে কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোট গণনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

‎মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩৯ কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে লাইন ধরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ছিল উৎসবমুখর। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়।

জকসু নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা চোখে পড়ার মতো। ভোট কেন্দ্রসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দায়িত্ব পালন করছেন তারা। বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে রাত থেকেই প্রবেশ গেটে বিশেষ পাহারা বসানো হয়েছে। আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা স্পেশাল কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্যানেলের পক্ষ থেকে ব্যালট নম্বর সম্বলিত বই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এসময় ছাত্রদল-শিবির প্যানেলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটে।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট একটি প্যানেলের প্রতিনিধিরা ব্যালট নম্বরের টোকেন নিয়ে সরাসরি বুথের ভেতর প্রবেশ করছেন।
রাকিব বলেন, “শহীদ সাজিদ ভবন কেন্দ্রে একটি বিশেষ প্যানেলকে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে কমিশন বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে প্রমাণ দেওয়ার পর সব প্যানেলকে টোকেন নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়। শুরুতে আমাদের প্যানেলকে এই সুযোগ না দিয়ে বৈষম্য করা হয়েছে। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ শিবির প্যানেলের

এদিকে, ভাষা রফিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত অন্য এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগ তোলেন।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকেই ছাত্রদলের কর্মীরা মূল ফটকে ঝামেলা সৃষ্টি করছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে তাদের পোলিং এজেন্টরা শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট প্যানেলে ভোট দিতে বাধ্য করছে এবং নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমাদের প্যানেলের ভোটার চিরকুট কেড়ে নিচ্ছে।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে একাধিক ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের পোলিং এজেন্টদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে শিবিরের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুলের স্ত্রীকে ক্যাম্পাসের বাইরে হেনস্থা এবং পুলিশে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, জকসু কেন্দ্রীয় সংসদে ৬৬.৮ শতাংশ এবং হল সংসদে ৭৭ শতাংশ ভোট গৃহীত হয়েছে।

‎শিক্ষার্থীরা জানান, জীবনের প্রথম জকসু নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে মহাখুশি তারা। প্রথমবারের নির্বাচন নিয়ে আগে কিছুটা সংশয় থাকলেও সবমিলিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন শেষ হয়েছে।

‎এসময় সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মায়িশা ফাহমিদা ইসলাম বলেন,ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।এতো এতো মানুষের ভীড়ে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিলো যা সত্যিই চমৎকার।

‎নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন ভোট গণনা শেষে আজ রাতেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

‎এর আগে, আজ সকাল নয়টায় ৩৯ টি কেন্দ্রের ১৭৮ টি বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। একইসাথে কড়া নজরদারিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকরা প্রবেশ করেন। এরপর সোয়া আটটার দিকে ক্যাম্পাসে পোলিং এজেন্ট ও প্রার্থীরা প্রবেশ করেন। এছাড়া কড়া নিরাপত্তায় ক্যাম্পাসে পুলিশ, র‍্যাবের ডগ স্কেয়াড, সোয়াট টিমসহ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস এবং রেঞ্জার ইউনিটি কাজ করেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024