|
Date: 2025-12-23 18:21:33 |
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর আওতাধীন কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ) লিমিটেডের বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কালিগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাঠ পরিদর্শক আব্দুস সালাম পরস্পর যোগসাজশে সমবায়ের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউসিসিএ লিমিটেডের আওতাধীন শতাধিক সমবায়ী কৃষকের ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করা হলেও তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ২ কোটি ৩৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা অনাদায় দেখানো হয়। এই অনাদায় দেখানোর আড়ালে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় প্রায় অনুপস্থিত ছিলেন এবং মাঠ পরিদর্শক আব্দুস সালামের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জেনেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। বরং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি তড়িঘড়ি তদবির করে বদলি হন। গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় বদলি করা হয়।
জাহাঙ্গীর আলম বদলি হওয়ার পর মাঠ পরিদর্শক আব্দুস সালাম আত্মগোপনে চলে যায়। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং নিজ গ্রামেও তাকে না পাওয়ায় অভিযোগের সত্যতা আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে জাহাঙ্গীর আলম নিজের দায় এড়াতে মাঠ পরিদর্শক আব্দুস সালামের ওপর দোষ চাপিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, আব্দুস সালামের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আলমের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউসিসিএ লিমিটেডের চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমান, ইউপিও জিএম আজমল হোসেনসহ সমবায়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যরা। তারা বলেন, যদি জাহাঙ্গীর আলম নির্দোষ হতেন, তাহলে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।
এ ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে কালিগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানজিয়ারা খাতুনকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধেও পূর্বে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার একাধিক অভিযোগ ওঠায় তাকে কালিগঞ্জ থেকে বদলি করা হয়েছিল। এরপরও তাকে পুনরায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সমবায় সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউসিসিএ লিমিটেডের সদস্যরা সম্প্রতি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করে তানজিয়ারা খাতুনের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রত্যাহার এবং জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তারা দাবি করেন, পুরো বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সমবায় ব্যবস্থার প্রতি কৃষকদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
© Deshchitro 2024