|
Date: 2025-12-17 23:10:02 |
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় বাল্যবিয়ে, যৌতুক দাবি ও দীর্ঘদিনের শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মোসাঃ মনিষা (১৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা করা হয়।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বাঘা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন নিহত মনিষার বাবা মুনসাদ আলী। তিনি বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের আটঘরি (চেয়ারম্যান পাড়া) গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মৃত আবু জিহাত আলীর ছেলে আজাদ আলী (২৫) বিয়ের পূর্ণ বয়স হওয়ার আগেই রেজিস্ট্রি কাবিন ছাড়াই তার মেয়ে মনিষাকে বিয়ে করেন। সে সময় মনিষার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। বিয়ের এক বছর পর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের সময় বেসরকারি একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়।
মুনসাদ আলী আরও জানান, বিয়ের চার বছর পর মেয়ের পূর্ণ বয়স হলে কাবিননামা রেজিস্ট্রি করার কথা বললে আজাদ আলীর মামা শহিদুল ইসলাম ও আত্মীয় জুয়েল আলী নতুন করে আরও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মনিষার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এক পর্যায়ে তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুনসাদ আলী। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় উল্কা গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নির্যাতনের শিকার হয়ে মনিষার মৃত্যু হয়। ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে গ্রামের সায়েম নামের এক ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়ে জানায়, মনিষা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরের মেঝেতে চাদর দিয়ে ঢাকা মরদেহ দেখতে পান, কিন্তু আত্মহত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়। এদিকে ঘটনার পরপরই স্বামী আজাদ আলী ও তার মা শরিফা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আজাদ আলীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে একটি লিখিত কাগজ দেখানো হয়, তবে সেই লেখার সঙ্গে মনিষার হাতের লেখার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহত মনিষার মা রুবিনা ও মামা সাদ্দাম হোসেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের বাবা মুনসাদ আলীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আজাদ আলী ও তার মা শরিফাকে আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি ।
© Deshchitro 2024