|
Date: 2025-12-06 18:03:41 |
সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় বিস্তৃত গারো পাহাড় একসময় ছিল ঘন শাল-গজারির অরণ্য আর সমৃদ্ধ প্রাণীবৈচিত্র্যের আধার। মাত্র দেড়-দুই দশক আগেও এই পাহাড়ি অঞ্চল ছিল বাঘ, ভালুক, মেছোবাঘ, হরিণ, শিয়াল, বানর ও নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। পাহাড়ি খাল-ঝরনাতেও ছিল প্রচুর মাছ।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলে গেছে। নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংস, অবৈধ বসতি স্থাপন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং লাগামহীন বৃক্ষনিধনে গারো পাহাড় হারাতে বসেছে তার প্রাচীন বৈভব। জীব-জন্তুর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ায় বন্যপ্রাণী খাদ্য ও আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বিশেষ করে বন্যহাতির আক্রমণে বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে; হাতি তাড়াতে গিয়ে প্রাণও হারাচ্ছেন নিরীহ মানুষ।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, ১০-১৫ বছর আগেও গারো পাহাড় এতটাই ঘন অরণ্যে আচ্ছাদিত ছিল যে দিনে-দুপুরে বাঘ, ভালুক বা হাতির ভয়ে মানুষ চলাচল করতে সাহস পেত না। গাছে গাছে বানরের দল, আকাশে শকুন-চিল-বকের ওড়াউড়ি ছিল নিত্যচিত্র। কিন্তু বর্তমানে এসব প্রাণী বিলুপ্তির পথে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনও সমস্যার গভীরতা স্বীকার করছে। উত্তর ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, অবৈধ দখল ও বাড়িঘর নির্মাণই প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। যদিও সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে বন কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, গারো পাহাড়ের প্রাণবৈচিত্র্য জাতীয় সম্পদ। পাখি শিকার ও বন ধ্বংস রোধে কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
© Deshchitro 2024