জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা প্রদান, হুমকি দেওয়া এবং চিকিৎসা সেবায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) ১ কর্মকর্তা, ২ শিক্ষক এবং ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের সাবেক পরিচালক ড. মো. মেহেদী উল্লাহ। শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সাবেক রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। তিনজনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে যারা বর্তমানে অধ্যয়নরত, তাদের স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর যারা আর অধ্যয়নরত নন, তাদের মধ্যে স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীদের স্নাতক সনদ এবং স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় সনদ বাতিল করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-
আল মাহমুদ কায়েস (সভাপতি, শাখা ছাত্রলীগ), মো. রাশেদুল ইসলাম রিয়েল (সাধারণ সম্পাদক, শাখা ছাত্রলীগ), আনাস সরকার (থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ, ২০১৫–১৬), জুবায়ের আহমেদ সাব্বির ওরফে অ্যালেক্স সাব্বির (ইইই, ২০১৮–১৯), মো. ইঞ্জামামুল হাসান (সমাজবিজ্ঞান, ২০১৮–১৯), কে এম রাজু (ইএসইই, ২০১৮–১৯), মোছা. তৃণা মির্জা (বাংলা, ২০১৯–২০), রিয়াজ উদ্দিন (২০২০–২১), নাইম আহমেদ দুর্জয় (২০২১–২২), হাসিব সিদ্দিকী (চারুকলা, ২০২০–২১), তাসনীমুল মুবীন (২০২০–২১), মো. মোস্তাকিম মিয়া (পরিসংখ্যান, ২০১৯–২০) এবং মো. পারভেজ মাতুব্বর (দর্শন, ২০১৯–২০)।

এর আগে চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বাধা, ধর্ষণের হুমকি, চিকিৎসা প্রদানে বাধা এবং উসকানিদাতাদের ভূমিকা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা এবং সদস্য সচিব ছিলেন প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024